জাতিসংঘে প্রথমদিন ১০ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী, আজ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কামরুল হাসান, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:৪৯ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৫:০১
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থা, রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চ পর্যায় কমিটির বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পেয়েছেন তিন দেশ সফরের আমন্ত্রণ। আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি বাংলা ভাষায় দেশের ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন।
এদিকে বুধবার রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চ পর্যায় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে গাম্বিয়া ও বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে বুধবার সকালে ‘রোহিঙ্গা সংকট’ নিয়ে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মালয়েশিয়াসহ ৮টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সহমর্মিতা থেকে সংকটের মূল কারণ ও তার সমাধান খোঁজার পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপে যাওয়ার সময় এসেছে এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে এই বাস্তুচ্যুতির অবসান ঘটানোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ৫ জরুরি পদক্ষেপ প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রেক্ষাপটে আমি পাঁচটি ক্ষেত্রে কিছু জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখতে চাই।
প্রস্তাবগুলো হলো: ১. আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্যান্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যা প্রত্যাবাসনের অনুকূল।
২. রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করতে হবে। তাদের উদার আতিথেয়তার কারণে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
৪. টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও স্বীকার করি, যেখানে ব্যক্তিগত অপরাধের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্তব্যবস্থাও কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিচারিক ও তদন্তব্যবস্থাগুলোকে অব্যাহত সহায়তা দিতে হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
৫. এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উস্কে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানব পাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
প্রথম দিনে ১০ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রথম দিনের ১০ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার ভোর ৫টা) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এ কথা বলেন।
জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সফরের সূচনাতেই সেই লক্ষ্য সফলভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে যোগদানসহ নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিং করা হয়।
মাহদী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চার দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনেই অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া তাঁর এই ব্যস্ততা অব্যাহত ছিল রাত ৮টা পর্যন্ত। পূর্বনির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি বাদে বাকি ১০টি কর্মসূচিতেই সশরীরে অংশ নিয়েছেন তারেক রহমান।
প্রথম দিনের ১০টি কর্মসূচিকে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করে তথ্য তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রথম দিনটির শুরু হয়েছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ের কিছু আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও ছিলেন। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রাতরাশ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ ভোজের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণী এতে অংশ নেন।
প্রথম দিনে জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় ফোরাম ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন বলেও উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী বা প্লেনারি সেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান এবং একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন আরও জানান, জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদেরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিশ্ব ইতিহাসে এক পরিবারের তিন সদস্যের এভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
মাহদী আমিন বলেন, এই বিরল গৌরব আরও মহিমান্বিত হয়েছে, যখন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশন পরিচালনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, সফরের প্রথম দিনেই আঞ্চলিক সহযোগিতার জোর তাগিদ দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা (রিজিওনাল কো-অপারেশন) বৃদ্ধিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে। হাইতির সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বৈশ্বিক সক্ষমতাকে তারা কীভাবে কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের এই বৈশ্বিক সাফল্য থেকে শেখার আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়।
মাহদী আমিন জানান, প্রথম দিনেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক গঠনমূলক, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনে বিজয় এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সফল উপস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ভুটান ও মালদ্বীপের মতো তুরস্কের প্রেসিডেন্টও প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, একটি ছিল জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে এবং অন্যটি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। বৈঠকে অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করার কথা স্মরণ করা হয়। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রথম দিনে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধি দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক হয়। এতে বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ (ডি-রেগুলেশন), অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং বাজেট সহায়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বিশ্বব্যাংক কীভাবে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে এবং আগামী দিনে যৌথ অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করা যায়, তা বৈঠকে অগ্রাধিকার পায়।
তবে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি। এর একটি ছিল ইউরোপিয়ান কাউন্সিল, অন্যটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে। তবে মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একটি উচ্চ পর্যাযের বিশেষ প্রতিনিধি দল বৈঠক সম্পন্ন করে। বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী থাকায় দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশনের উন্নয়ন নিয়ে কোম্পানিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক খান।
মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক
নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে রয়েছে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়। বৈঠকের মাধ্যমে চলমান ইউএনজিএ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে দাতব্য ও মানবিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠেয় উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ বিতর্কে এটি হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।